রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, “একি কটাক্ষ?”। একদিকে তিনি নিজেকে ‘কিংমেকার’ দাবি করছেন, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়া আটকাতে বিরোধী জোটের ডাক দিচ্ছেন। “আমার দল ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না” সম্প্রতি এক জনসভায় হুমায়ুন কবীর সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমোর দিকে। তিনি দাবি করেন, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার গঠন করতে পারবেন না। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে হাসাহাসি শুরু হলেও, হুমায়ুন নিজের দাবিতে অনড়। তিনি বলেন, “২০২১-এ সিপিএম-কংগ্রেস শূন্যে ছিল, কিন্তু ২০২৬-এ ছবিটা অন্য হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবারের জন্য গদিতে বসতে দেব না।” নাড্ডার প্রশংসা ও দলবদলের ইঙ্গিত? সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি তিনি বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডার প্রশংসাও করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কি তবে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত? নাকি ভোটের আগে এটি তাঁর নিছকই রাজনৈতিক কৌশল? কখনও তিনি বলছেন তাঁর দরজা বিজেপি বা সিপিএম সবার জন্য খোলা, আবার কখনও পুরনো দল তৃণমূলকেই পরোক্ষ বার্তা দিচ্ছেন। হুমায়ুন কবীরের এই ‘গরম-নরম’ অবস্থান এবং মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এমন শ্লেষাত্মক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা করছে। সত্যিই কি তিনি ‘কিংমেকার’ হতে পারবেন, নাকি এই কটাক্ষ ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে তাঁর দিকেই? উত্তর মিলবে ২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফলেই।













